নিউজ ডেস্ক :
‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’ শীর্ষক জরিপের তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ভবিষ্যতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। এ ছাড়া ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ করেন। আর ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
একই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মার্চ, সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি ভোটারদের সমর্থন ক্রমেই বেড়েছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত থেকে গেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় জামায়াত ও এনসিপির একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে সরে এসেছে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় একটি অংশও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছেন।
এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এমন প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।
জরিপটি চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে মোট ৫ হাজার ১৪৭ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং দলীয় পছন্দ এই ছয়টি বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।
বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। পেপসের প্রথম রাউন্ড প্রকাশ করা হয় গত বছরের মার্চে এবং দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়েই টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়।
গণভোট প্রসঙ্গে জরিপে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা গণভোট সম্পর্কে জানেন না।
Reporter Name 























