তালতলী(বরগুনা) সংবাদদাতা:
বরগুনার তালতলী উপজেলার লোকমান হোসেন হাওলাদারের ওয়াকফ স্টেটের জমির রোপন কৃত ধানের বীজ উপড়ে ফেলে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব তালুকদার ও আব্দুল সত্তারের বিরুদ্ধে। গতকাল ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১১ টান দিকে পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

জানাগেছে, উপজেলার পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের লোকমান হোসেন তার ১৭ একর জমি ১৯৯২ সালে ওয়াকফ দলিল করে যান। ওই সময়ে ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি নিযুক্ত হন মোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার। ৩৪ বছর ধরে ওই জমি মোতায়ালি ভোগদখল করে আসছেন।
গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে কালু, সহ সভাপতি আব্দুল সত্তার, হামেজ মৃধা, নাসির মৃধা, জসিম মৃধা, রফিজ প্যাদা, নাসির মাষ্টার ও জুয়েলসহ ৩০/৪০ জন ভুমিদস্যু ওয়াকফা ষ্টেটের ওই জমিতে হাইব্রিড ধানের রোপনকৃত চারা উপরে ফেলে পুনরায় চাষাবাদ করেন।
রোপনকৃত জমিতে চাষাবাদে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। এসময় রেশমা বেগম নামের এক নারী আহত হয়। প্রাণনাশের ভয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আহত রেশমা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
জমির মোতায়াল্লি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার বলেন, লোকমান হোসেন হাওলাদার ওয়াকফ স্টেটের আমি মোতায়াল্লি। ওই জমি আমি গত ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে কালু ও আব্দুল সত্তারের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভোগদখলে থাকা জমির রোপনকৃত হাইব্রিড ধানের চারা উপরে ফেলে চাষাবাদ করেছে। আমি এতে বাধা দিলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার স্বজন রেশমা এগিয়ে গেলে তারা তাকে মারধর করেছে।
আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে (কালু) বলেন, কবলা দলিল মূলে আমরা ওই জমির মালিক। আমাদের জমিতে তারা ধানের বীজ রোপন করেছে। আমরা ধানের বীজ উপরে ফেলে নতুন করে বীজ বপন করব।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জেনে আমি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















