বরগুনা সংবাদদাতা:
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ৬ জুন জেরিন নামের এক মানবিক প্রাণের অকালে মৃত্যুর স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন “জেরিন স্মৃতি কেয়ার” সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ডেঙ্গু মহামারীর সময় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন বিষয়ে প্রচারণা এবং দরিদ্র ও রোগাক্রান্ত মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।
চলমান তীব্র শীতের কারণে বরগুনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ, বৃদ্ধ, শিশু ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেরিন স্মৃতি কেয়ারের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেরিন স্মৃতি কেয়ারের উপদেষ্টা, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের সভাপতি শারমিন সুলতানা আসমা, আমাদের জন্য আমরা সংগঠনের সদস্য সচিব আল আমিন, জেরিন স্মৃতি কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাকিবুল ইসলাম রাজনসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমাদের জন্য আমরা সংগঠনের সদস্য সচিব আল আমিন বলেন, জেরিন একজন মানবিক মানুষ হিসেবে আমাদের কাছে সব সময়ই পরিচিত ছিলেন। মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও মানবিক চিন্তাধারাকে ধারণ করেই ‘জেরিন স্মৃতি কেয়ার’ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। আমাদের জন্য আমরা সংগঠন সব সময় এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
জেরিন স্মৃতি কেয়ারের উপদেষ্টা শারমিন সুলতানা আসমা বলেন, জেরিন আমার ছোট বোন। তার অকালে চলে যাওয়া আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। জেরিন স্মৃতি কেয়ার ভবিষ্যতেও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবায় কাজ করে যাবে।
জেরিন স্মৃতি কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাকিবুল ইসলাম রাজন বলেন,
জেরিনের মৃত্যুর পর সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় থেকেই আমি এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করি। চিকিৎসার অভাবে যেন আর কোনো প্রাণ ঝরে না পড়ে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যেকোনো দুর্যোগ, মহামারী কিংবা মানবিক সংকটে জেরিন স্মৃতি কেয়ার মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। সবাই আমার স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেরিন স্মৃতি কেয়ারের মতো সংগঠনগুলো শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সব সময় স্বাগত ও সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে কম্বল পাওয়া শীতার্ত মানুষরা সংগঠনের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 





















