Dhaka 10:43 pm, Wednesday, 18 February 2026
[gtranslate]

বামনায় নব্য জামায়াত কর্মীর বক্তব্য ভাইরাল

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:10:30 pm, Friday, 23 January 2026
  • 68 Time View

নিউজ ডেস্ক:

আগামি সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থীর নির্বাচনি জনসভায় ‌”৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারেনা” এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টিতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন রাত পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনি জনসভায় এমন বক্তব্য দেন আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। জনসভা চলাকালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর জনসভায় এমন বক্তব্য দেন তিনি।

আফজাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরআন চান? না বেদায়াত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চস্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে, এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বেধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারেনা। সংবিধান থাকতে পারেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেয়া হয়, আর কি চুরি এই এলাকায় হবে? সেই শাসন আমরা চাই।’

এসময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে উদ্দেশ করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আপনার চিন্তা নাই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে, ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’

এ বিষয়ে জানতে আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, ‘তিনি নতুন মানুষ। আমাদের কালকেই পরিচয়। তিনি ওই এলাকার মানুষ। রিটায়ার্ড মুরুব্বি মানুষ। বলে ফেলছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকেনা। আবেগে সে এখন বলছে, জামায়াতের সঙ্গে কাজ করবো। জামায়াতে যোগদানতো এরকম হয়ও না। এখন নির্বাচনের সময়, ফরম ফিলাপ করতে হয়। ওয়াদা করতে হয় যে, এই এই কাজ করবো, এই এই কাজ করবো না, নানাবিধ বিষয় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মুখ থেকে বা আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এরকম কোনো বক্তব্য আসেনি। আমার বক্তৃতা দেখুক, কারও নামও লইনি বিরোধী দলের।’

বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বামনায় নব্য জামায়াত কর্মীর বক্তব্য ভাইরাল

Update Time : 08:10:30 pm, Friday, 23 January 2026

নিউজ ডেস্ক:

আগামি সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থীর নির্বাচনি জনসভায় ‌”৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারেনা” এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টিতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন রাত পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনি জনসভায় এমন বক্তব্য দেন আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। জনসভা চলাকালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর জনসভায় এমন বক্তব্য দেন তিনি।

আফজাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরআন চান? না বেদায়াত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চস্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে, এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বেধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারেনা। সংবিধান থাকতে পারেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেয়া হয়, আর কি চুরি এই এলাকায় হবে? সেই শাসন আমরা চাই।’

এসময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে উদ্দেশ করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আপনার চিন্তা নাই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে, ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’

এ বিষয়ে জানতে আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, ‘তিনি নতুন মানুষ। আমাদের কালকেই পরিচয়। তিনি ওই এলাকার মানুষ। রিটায়ার্ড মুরুব্বি মানুষ। বলে ফেলছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকেনা। আবেগে সে এখন বলছে, জামায়াতের সঙ্গে কাজ করবো। জামায়াতে যোগদানতো এরকম হয়ও না। এখন নির্বাচনের সময়, ফরম ফিলাপ করতে হয়। ওয়াদা করতে হয় যে, এই এই কাজ করবো, এই এই কাজ করবো না, নানাবিধ বিষয় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মুখ থেকে বা আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এরকম কোনো বক্তব্য আসেনি। আমার বক্তৃতা দেখুক, কারও নামও লইনি বিরোধী দলের।’

বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।