Dhaka 8:58 pm, Wednesday, 18 February 2026
[gtranslate]

৩০০ টাকার ঘুষ কর্মকাণ্ডে চাকরি হারালেন ইসি কর্মকর্তা শুধাংশু সাহা

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:20:00 am, Saturday, 7 February 2026
  • 10 Time View

নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা দিতেন কর্মকর্তা সুধাংশু। সেবা প্রদানে মাত্র ৩০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ করতেন। ধরা পড়ে গেলে ঘুষ লেনদেনের তথ্য গোপন করতে সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। ঘুষ গ্রহণ এবং ঘুষ প্রদানের অভিযোগে চাকরি হারান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংশু কুমার সাহা।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধাংশু কুমার সাহা কুমিল্লায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন এক সেবাগ্রহীতার এনআইডি সংশোধনের জন্য অবৈধভাবে ৩০০ টাকা গ্রহণ করেন। ওই সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও যাতে প্রচার না করা হয়, সে জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা ‘উৎকোচ’ বা ঘুষ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাব দেন।

এ অনৈতিক ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও তার জবাব সন্তোষজনক ছিল না। পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির সানুগ্রহ অনুমোদনের পর তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি থেকে অপসারণ’ নামক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতির অংশ। বরখাস্তের আগে তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুরে সংযুক্ত ছিলেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৩০০ টাকার ঘুষ কর্মকাণ্ডে চাকরি হারালেন ইসি কর্মকর্তা শুধাংশু সাহা

Update Time : 05:20:00 am, Saturday, 7 February 2026

নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা দিতেন কর্মকর্তা সুধাংশু। সেবা প্রদানে মাত্র ৩০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ করতেন। ধরা পড়ে গেলে ঘুষ লেনদেনের তথ্য গোপন করতে সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। ঘুষ গ্রহণ এবং ঘুষ প্রদানের অভিযোগে চাকরি হারান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংশু কুমার সাহা।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধাংশু কুমার সাহা কুমিল্লায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন এক সেবাগ্রহীতার এনআইডি সংশোধনের জন্য অবৈধভাবে ৩০০ টাকা গ্রহণ করেন। ওই সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও যাতে প্রচার না করা হয়, সে জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা ‘উৎকোচ’ বা ঘুষ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাব দেন।

এ অনৈতিক ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও তার জবাব সন্তোষজনক ছিল না। পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির সানুগ্রহ অনুমোদনের পর তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি থেকে অপসারণ’ নামক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতির অংশ। বরখাস্তের আগে তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুরে সংযুক্ত ছিলেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।