বরগুনা সংবাদদাতা:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণ, সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনকালীন সহিংসতা পরিহার, উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বরগুনার জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য সংলাপে এসব কথা বলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং ভোটাররা যেন নিরাপদ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। বরগুনা জেলা মাল্টি পার্টি এডভোকেসি ভ ফোরামের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপ-পরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান।
সংলাপে বিএনপির বরগুনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ও ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। সহিংসতা ও উসকানির রাজনীতি পরিহার করে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ও শালীনতার পরিচয় দিতে হবে।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণাকালসহ যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখতে হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করার নির্দেশনা রয়েছে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা জেলা সেক্রেটারি মোঃ আবদুশ শাকুর বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সহনশীল আচরণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
এছাড়া বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণই পারে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে।’
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে বলেন, ভদ্র রাজনৈতিক চর্চা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার মধ্য দিয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারী নুরুল আলম, এনসিপি নেত্রী নাসরিন আক্তার প্রমুখ।
বক্তব্যের শেষাংশে সকল দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
Reporter Name 























