গাইবান্ধা সংবাদদাতা:
গাইবান্ধায় পাঁচ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) এক হাবিলদার। আদালতের ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রফিকুল হাসান তালুকদার। তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী খুলশী এলাকার মেরিন আরএনবি ট্রেনিং সেন্টারের আব্দুর রাজ্জাক তালুকদারের ছেলে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে (আরএনবি) হাবিলদার পদে কর্মরত।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার মৃত সামছুল হকের ছেলে মো. শফিউল ইসলামের সঙ্গে রফিকুল হাসানের পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে বিশেষ প্রয়োজনে রফিকুল ভুক্তভোগী শফিউলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেন।
পরবর্তীতে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য রফিকুল হাসান ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চট্টগ্রাম দেওয়ানহাট শাখার নিজ হিসাবের (হিসাব নং- ২০৫০২৮৮০২০১৩১৪৭০৩) বিপরীতে ৫ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। শফিউল ইসলাম চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর তা ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হয়।
টাকা ফেরত চেয়ে ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর রফিকুলকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। নিরুপায় হয়ে শফিউল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই গাইবান্ধা যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলা (সেশন নং- ৭৩৪/২৪) দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত গত ২০২৫ সালের ১ আগস্ট রফিকুল হাসান তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট ক্রমিক-১১৯২) জারি করেন।
বাদীর অভিযোগ, ওয়ারেন্ট জারির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না। প্রভাবশালী হওয়ায় আসামি স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। অন্যদিকে ধার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী শফিউল ইসলাম। তিনি আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে পাওনা টাকা আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 




















