Dhaka 1:38 am, Thursday, 19 February 2026
[gtranslate]

চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে গিয়ে মার খেলেন স্বজনরা

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:46:42 pm, Sunday, 25 January 2026
  • 43 Time View

রাজশাহী সংবাদদাতা:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে কথা বলায় এক রোগীর স্বজনদের কক্ষ আটকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​আহত ভুক্তভোগীর নাম জুয়েল ইসলাম (৩৬)। তিনি উপজেলার উত্তর গাঁওপাড়া এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে। তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রূপবান বেগম ও তুষার (১৫) নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের বেংগাড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাব্বি (১৪) নামের এক কিশোর আহত হয়। সে অভিযোগকারী জুয়েল ইসলামের ভাগ্নে। তাকে চিকিৎসার জন্য বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

​জুয়েলের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসার অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমি যা চিকিৎসা দেওয়ার দিয়ে দিয়েছি, এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা এখানে হবে না।’ পরে জুয়েল উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করার অনুরোধ জানান।

​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রেফার্ড করার অনুরোধ জানালে হাসপাতালের স্টাফরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় জুয়েল পুরো বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করলে কয়েকজন স্টাফ মারমুখী আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালের কেচি গেট বন্ধ করে দিয়ে লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও কাঠের খড়ি দিয়ে জুয়েলসহ তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

​ভুক্তভোগী জুয়েল ইসলাম তাঁর অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ, মেডিকেল স্টাফ আব্দুল আজিজ, নৈশপ্রহরী (মাস্টার রোল) সোহেল রানা এবং হাসপাতাল গেটের পাশের ওষুদ দোকানের কর্মচারী এলিম (৩০), শাওন (৩০) ও মারুফের নাম উল্লেখ করেছেন।

​এদিকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক কটুক্তি করেন।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

​বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, “একজন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে গিয়ে মার খেলেন স্বজনরা

Update Time : 12:46:42 pm, Sunday, 25 January 2026

রাজশাহী সংবাদদাতা:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে কথা বলায় এক রোগীর স্বজনদের কক্ষ আটকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​আহত ভুক্তভোগীর নাম জুয়েল ইসলাম (৩৬)। তিনি উপজেলার উত্তর গাঁওপাড়া এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে। তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রূপবান বেগম ও তুষার (১৫) নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের বেংগাড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাব্বি (১৪) নামের এক কিশোর আহত হয়। সে অভিযোগকারী জুয়েল ইসলামের ভাগ্নে। তাকে চিকিৎসার জন্য বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

​জুয়েলের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসার অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমি যা চিকিৎসা দেওয়ার দিয়ে দিয়েছি, এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা এখানে হবে না।’ পরে জুয়েল উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করার অনুরোধ জানান।

​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রেফার্ড করার অনুরোধ জানালে হাসপাতালের স্টাফরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় জুয়েল পুরো বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করলে কয়েকজন স্টাফ মারমুখী আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালের কেচি গেট বন্ধ করে দিয়ে লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও কাঠের খড়ি দিয়ে জুয়েলসহ তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

​ভুক্তভোগী জুয়েল ইসলাম তাঁর অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ, মেডিকেল স্টাফ আব্দুল আজিজ, নৈশপ্রহরী (মাস্টার রোল) সোহেল রানা এবং হাসপাতাল গেটের পাশের ওষুদ দোকানের কর্মচারী এলিম (৩০), শাওন (৩০) ও মারুফের নাম উল্লেখ করেছেন।

​এদিকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক কটুক্তি করেন।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

​বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, “একজন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।