বরগুনা সংবাদদাতা:
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মহিব্বুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার তাছলিমা আক্তারের কাছে অভিযোগটি দাখিল করেন মো. ইব্রাহীম। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বড় টেংরা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মহিব্বুল্লাহ হারুন বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল (এমএ) মডেল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি বরগুনা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের পক্ষে গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনি জনসভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. মহিব্বুল্লাহ হারুন প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন এবং সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)-এর পক্ষে জনসভায় বক্তব্য ও প্রচারণা চালান, যা প্রচলিত নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আরও উল্লেখ করা হয়, তার স্থায়ী বাসস্থান বরগুনা সদর উপজেলায় হলেও তিনি বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ সংসদীয় আসনে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ২০(খ) ধারার পরিপন্থি, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক মো. মহিব্বুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে এখনো অবগত নন জানিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল (এমএ) মডেল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. মহিব্বুল্লাহ হারুন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষকতা অবস্থায় ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। এই সংসদ নির্বাচনে আমি নিজেও প্রার্থী ছিলাম। আমার প্রার্থিতা বৈধ ছিল এবং আমি প্রচারণাও চালিয়েছি। দলীয় নির্দেশনার কারণে প্রত্যাহারের দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করি। আমি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে দলীয় সভায় বক্তৃতা দিতে পারব না, এটি আমার জানা ছিল না। তা ছাড়া আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়, কারণ আমি নিজেই প্রার্থী ছিলাম।’
Reporter Name 





















