Dhaka 4:32 am, Thursday, 19 February 2026
[gtranslate]

পাথরঘাটা পৌরসভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:58:21 pm, Thursday, 29 January 2026
  • 22 Time View

বরগুনা সংবাদদাতা :

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সড়ক নির্মাণ কাজের ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মেয়র, প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ অভিযোগটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আগামী ১লা এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আকন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন এবং হিসাব রক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন।

মামলার নথি ও বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি (প্রোপাইটর, মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজ) সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পাথরঘাটা পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৩৭ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পায় সততা এন্টারপ্রাইজ। কাজের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২৮ টাকা। কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কিস্তিতে ২১ লাখ ১৬ হাজার ৫০১ টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক মো. তানভীর মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন এবং কাজ চলমান রাখেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিল হিসেবে তাকে আরও ৩০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদার পরবর্তী বিল দাবি করলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিল ছাড় করা হয়েছে। তবে ঠিকাদার তার ব্যাংক হিসেবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোনো টাকা জমা হয়নি বা চেক ইস্যু করা হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেয়র অপসারিত হলে ঠিকাদার নতুন প্রশাসকের কাছে বিলের জন্য আবেদন করেন। প্রশাসক গত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেও আসামিরা বিল প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা দাবি করেন যে, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আগেই প্রদান করা হয়েছে।

মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি অভিযোগ করে বলেন, “আমার পাওনা টাকা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুল হায়দার মামলার খবরটি স্বীকার করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, পাথরঘাটা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও (ইউএনও) ইশরাত জাহান জানান, মামলার বিষয়ে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু অবগত নন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

পাথরঘাটা পৌরসভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা

Update Time : 06:58:21 pm, Thursday, 29 January 2026

বরগুনা সংবাদদাতা :

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সড়ক নির্মাণ কাজের ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মেয়র, প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ অভিযোগটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আগামী ১লা এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আকন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন এবং হিসাব রক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন।

মামলার নথি ও বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি (প্রোপাইটর, মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজ) সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পাথরঘাটা পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৩৭ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পায় সততা এন্টারপ্রাইজ। কাজের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২৮ টাকা। কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কিস্তিতে ২১ লাখ ১৬ হাজার ৫০১ টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক মো. তানভীর মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন এবং কাজ চলমান রাখেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিল হিসেবে তাকে আরও ৩০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদার পরবর্তী বিল দাবি করলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিল ছাড় করা হয়েছে। তবে ঠিকাদার তার ব্যাংক হিসেবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোনো টাকা জমা হয়নি বা চেক ইস্যু করা হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেয়র অপসারিত হলে ঠিকাদার নতুন প্রশাসকের কাছে বিলের জন্য আবেদন করেন। প্রশাসক গত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেও আসামিরা বিল প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা দাবি করেন যে, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আগেই প্রদান করা হয়েছে।

মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি অভিযোগ করে বলেন, “আমার পাওনা টাকা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুল হায়দার মামলার খবরটি স্বীকার করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, পাথরঘাটা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও (ইউএনও) ইশরাত জাহান জানান, মামলার বিষয়ে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু অবগত নন।