চট্টগ্রাম সংবাদদাতা:
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই জোরালো হচ্ছে ভোটের প্রচারণা। প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটরদের শোনাচ্ছেন আশার বাণী। দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণ শমিল হচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও আলোচনায়। এই আসনে একক প্রার্থী নিয়ে ১১ দলীয় জোট নির্ভর থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, বাঁশখালীতে বাংলাদেশ বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। দাঁড়িপাল্লা প্রাতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী।
এছাড়াও ইসলামীক ফ্রন্টের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক আশরাফী, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল্লাহ তালুকদার, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক কে মাঠে দেখা গেলেও দেখা মিলছে না মুসলিম লীগের এহসানুলের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ আসনে বিএনপির অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে মজবুত হলেও বর্তমানে দলটির অভ্যন্তরীণ প্রকট গ্রুপিং, আলোচিত নেতা লিয়াকত আলীর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা এবং পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক বন প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে বিএনপির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। স্থানীয়দের মতে, বাঁশখালীতে ব্যক্তি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। তার মৃত্যুতে দলটির নেতৃত্বশূন্যতা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, এই শূন্যতা পূরণে বিএনপির দীর্ঘ সময় লাগবে।
জানা গেছে, বাঁশখালীতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীকে (পাপ্পা) বিজয়ী করতে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্ঘুমে ভোটারদের দ্বারস্থ হচ্ছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে এই আসনে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলীর ফুটবল প্রতীকের গণজোয়ারও চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী সমর্থকদের ভোটের একটি অংশ লিয়াকত আলীর পক্ষে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও সুন্নী সমর্থকদের বেশিরভাগ ভোটও লিয়াকতের বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনাও খুব বেশি বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীরও উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংক রয়েছে । ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার সমর্থিত প্রার্থী, স্বতন্ত্র থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ সবাইকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জহিরুল ইসলাম, বদরুল হক এবং সাফিয়া মোক্তারসহ জামায়াতের পুরো প্যানেল বিজয়ী হন। এছাড়া পূর্বের তুলনায় এবছর জামায়াতের একক ভোট বেড়েছে।
সব মিলিয়ে এই আসনে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাগ বসাবেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। আর তেমনটা হলে বিএনপির কপাল পুড়তে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
1বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৫ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার বিজয়ী হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বাঁশখালী আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
Reporter Name 





















