যশোর সংবাদদাতা:
ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার নামে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজধানী ঢাকার ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামের এক নারী। যশোর ও অভয়নগরের কয়েকজন ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী নিলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাবসায়ীরা তাদের অর্থ ফেরত ও ন্যায় বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স এটুজেড ট্রেডিং স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক অচলাবস্থায় নিলা ব্রড কান্ট্রি এলসি ওপেন করার টোপ দেন। এরপর যশোরের নয়জন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে এলসি করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে আনিসুর রহমান ৯জন ব্যবসায়ীর পক্ষে নিলার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৯ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেন। টাকা নেওয়ার পরথেকে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন।
আনিসুর রহমান বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজ রেডি করার পর এলসির জন্য চাপ দিলে নিলা তাকে একটি ভুয়া এলসি কপি ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ৫০ লক্ষ টাকার একটি জাল বিএফটিএন (BFTN) কপি এবং একটি ভুয়া এফডিআর (FDR) কপি দেন।
তিনি আরো বলেন, একপর্যায় তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নিজেকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী নেতা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ভাঙিয়েও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
নিলার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মানব পাচার এবং নথি জালিয়াতির একাধিক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান প্রথমে গুলশান থানায় মামলা করলে নিলা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু রহস্যজনক আদালত থেকে তিনি জামিন পান। জামিনের শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি হাইকোর্ট থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যশোর পুলিশ সুপারের সহায়তায় নতুন মামলা দায়ের হলে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
আনিসুর রহমান আরও বলেন, এর আগেও নিলার নামে কয়েকটি প্রতারণা মামলা ছিল। সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য ইশারায় এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর ও অভয়নগরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংক লোন নিয়ে এলসির টাকা দিয়ে এখন তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। অনেক পরিবার এখন এই প্রতারক চক্রের কারণে দেউলিয়া হবার পথে।
এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে নিলাকে জামিন না দেওয়া এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী আলম ট্রেডিংয়ের প্রোপ্রাইটর নুর আলম বাবু, তালতলা স্টোন হাউজের মালিক মাহমুদ হাসান লিপু, জনি এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিশ্বাস ট্রেডার্স এর জিয়া বিশ্বাস, এগ্রো এন্টারপ্রাইজের গোলাম সরোয়ার ও মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে অভঅভিযুক্ত ফারজানা ইয়াসমিন নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন কথা জানান, ওই ব্যবসায়ীরা অনৈতিক পন্থায় আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। ফলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না নিলার মেয়ে নন্দিতা।
Reporter Name 








