Dhaka 7:29 pm, Wednesday, 18 February 2026
[gtranslate]

ভারতের দাপটে অসহায় পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:56:24 pm, Sunday, 15 February 2026
  • 3 Time View

স্পোর্টস সংযোগ:

ব‌্যাট-বলের দাপটে স্রেফ দর্শক বানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম‌্যাচ জিতে নিল বর্তমান চ‌্যাম্পিয়নরা। পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না ভারত। ম‌্যাচে স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। টানা তিন জয়ে সুপার এইটও নিশ্চিত হয়ে গেছে মেন ইন ব্লুদের।

কলম্বোতে আগে ব্যাটিরকরতে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করে। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ১৮ ওভারেই। ৬১ রানের বিশাল ব‌্যবধানে জয় পায় ভারত।

এই ম্যাচটি ঘিরে তুমুল আলোচনা হচ্ছিল। নানা ঘটনা প্রবাহে ক্রিকেট বিশ্বের চোখ ছিল এই ম‌্যাচে। কিন্তু তেমন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে না পারায় ম‌্যাচের আমেজটাই জমলো না। একতরফা ম্যাচে ভারত দেখাল নিজেদের শক্তি। পাকিস্তান না বোলিংয়ে, না ব‌্যাটিংয়ে ন্যূনতম লড়াই করতে পেরেছে।

অতীত রেকর্ডও সেরকম। গত ১৯ বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল আটবার মুখোমুখি হয়ে সাতবারই হেরেছে পাকিস্তান। পরাজয়ের সংখ‌্যাটা এবার আরও বাড়ল। সঙ্গে বিশাল হারের লজ্জা।

বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্লেয়ার অব দ‌্য ম‌্যাচ হয়েছেন ইশান কিশান। বিরুদ্ধ উইকেটে ৪০ বলে ৭৭ রান করেছিলেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। তার দাপটে পাকিস্তানের বোলাররা ছিলেন দিশেহারা। তার ইনিংসটিই গড়ে দিয়েছে ব‌্যবধান।

ভারতের হয়ে হার্দিক, বুমরাহ, বরুণ, অক্ষর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। কুলদ্বীপ ও তিলকের পকেটেও গেছে ১টি করে উইকেট। সব মিলিয়ে গোটা দলের পারফরম‌্যান্স ছিল সম্মিলিত। সেজন‌্য ম‌্যাচ জিততে কোনো সমস‌্যাই হয়নি তাদের শেষটাতেও বিবর্ণ পাকিস্তান।

শুরুর ব‌্যাটসম‌্যানরা কেউ লড়াই করতে পারেনি। মিডল অর্ডারে হাল ধরেছিলেন উসমান খান। বাকিরা স্রেফ দর্শক। উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরেছেন। শেষটাতে পাকিস্তান ছিল আরো বিবর্ণ। শাহীন শাহ আফ্রিদি ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। আবরার, উসমান তারিক খুলতে পারেননি রানের খাতাও। ৭ উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। ১০ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে সপ্তম উইকেট হারাল পাকিস্তান। বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে তারা। ভারত হেসেখেলেই হারানোর পথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।

১১তম ওভারের চতুর্থ বলে উসমান খানকে (৪৪) স্টাম্পড করেন অক্ষর পাটেল। পরের ওভারে কুলদ্বীপ যাদবকে উড়াতে গিয়ে সীমানায় ক‌্যাচ দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন শাদাব খান। পরাজয় নিশ্চিতের আগেই পাকিস্তান অসহায় আত্মসমর্পণ করছে।

তবে শুরুর বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। পাওয়ার প্লে’তে ব‌্যাকফুটে চলে যায় তারা। হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে উসমান খান ও শাদাব খান চেষ্টা করছেন লড়াই করতে। একাধিক বাউন্ডারি পেয়েছেন দুই ব‌্যাটসম‌্যান। কিন্তু লক্ষ‌্যের পথে ছুটতে আরো আগ্রাসী ব‌্যাটিং করতে হবে তাদেরকে। পারবে কী পাকিস্তান?

পাওয়ার প্লে’তে এলোমেলো পাকিস্তান। ভারত পাওয়ার প্লে’তে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ৫২ রান। পাকিস্তান ৪ উইকেটে করেছে মাত্র ৩৮ রান।

১৭৬ রানের লক্ষ‌্য তাড়া করতে নেমে চরম ব‌্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ২ ওভারে ৩ উইকেট হারানোর পর উসমান খান ও বাবর আজম হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাবরকে পঞ্চম ওভারে ফেরান অক্ষর পাটেল। তার আর্ম বলে বোল্ড হন ৫ রান করা বাবর।

উইকেটে উসমানের নতুন সঙ্গী শাদাব খান। চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান, ২ ওভারে নেই ৩ উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম ওভার উইকেট মেডেন। জসপ্রিত বুমরাহ পরের ওভারে হজম করলেন ১৩ রান। কিন্তু তুলে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। স্কোরবোর্ডে ১৩ রান তুলতেই পাকিস্তানের ৩ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ১৭৬ রান টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান।

হার্দিকের করা প্রথম ওভারের তিন বলে রান নিতে পারেননি শাহিবজাদা ফারহান। চতুর্থ বলে ডানহাতি ব‌্যাটসম‌্যান মিড অনে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে বুমরাহকে প্রথম বলে ছক্কা উড়ান সাইম। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওই ওভারের শেষ বলে পাকিস্তানের অধিনায়ক নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন। স্লগ করতে গিয়ে হাওয়ায় ক্যাচ দেন। উইকেটে এখন বাবর আজম ও উসমান খান রয়েছেন। পাকিস্তানের টার্গেট ১৭৬ রান।

পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ব‌্যাটিংয়ে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছে। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা ইনিংসের শেষ ওভারে ১৬ রান তুলে বেশ চনমনে ভারতীয় শিবির। পাকিস্তানের ২০ ওভারের ১৮টিই করেছেন স্পিনাররা। পেসার শাহীন করেছেন ২ ওভার। ১ উইকেট নিয়ে রান দিয়েছেন ৩১।

ভারতের আরো বড় পুঁজি পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলিং ভালো হওয়াতে সেই সুযোগটি পায়নি ভারত। ১০ ওভারে তাদের রান ছিল ৯২। ইশান কিশান বিস্ফোরক ইনিংস খেলে যখন আউট হন তখন ৮.৪ ওভারে তাদের রান ৮৮। হাতে ৮ উইকেট রেখেও ভারত দুইশর কাছাকাছি পুঁজি পায়নি।

তবে এই উইকেটে ব‌্যাটিং করা কঠিন ছিল বেশ। বল উঠা-নামা করেছে। স্পিনারদের বল টার্ণও করেছে বেশ। তাইতো পাকিস্তান ৬ স্পিনার ব‌্যবহার করে ১৮ ওভার করেছে। এর আগেও কলম্বোতে এমন কিছু করেছে তারা। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮ ওভার করেছিল তাদের স্পিনাররা।

জোড়া উইকেটে সাইমের বাজিমাত। প্রথমে তিলক বার্মা, পরে হার্দিক পান্ডিয়া। পরপর দুই বলে আউট দুই ভারতীয় ব‌্যাটসম‌্যান। ১৫তম ওভার দারুণভাবে রাঙালেন সাইম আইয়ুব। হ্যাটট্রিকেরও সুযোগ ছিল। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান শিভাব দুমে তার বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ব্যাট, স্ট্যাম্প ফাঁকি দিয়ে বল যায় উইকেটের পেছনে। পাকিস্তান কট বিহাইন্ডের জন্য রিভিউ নেয়। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

তিলক বার্মা ২৪ বলে ২৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন সাইমের সোজা বলে। পরের বলে হার্দিক লং অফে ক্যাচ তোলেন। বাবর আজম বাকি কাজ সারেন। ওভারে ২ রানে ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে দারুণভাবে ফেরালেন সাইম।

বড় সংগ্রহের পথে ভারত। ১৪ ওভার শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ১২৫। ডেথ ওভারে কত করবে ভারত? শুরুতে উইকেট হারানোর পর ইশান কিশানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ভারত বড় এগিয়ে যায়। কিন্তু তার বিদায়ের পর তেমন রান আসেনি। ইশান থাকা অবস্থায় ওভার প্রতি প্রায় দশের কাছাকাছি রান আসছিল। এখন তা ৮.৯২। উইকেটে আছেন তিলক বার্মা ও সূর্যকুমার যাদব। তৃতীয় উইকেটে ৩২ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েছেন তারা।

বিস্ফোরক ইনিংস খেলে থামলেন ইশান। ৪০ বলে ৭৭ রান করে সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়েছেন ইশান কিশান। ১০ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন ভারতের এই ওপেনার। উইকেট একটু ধীর প্রকৃতির। বল উঠা-নামা করছে। সঙ্গে বাড়তি টার্ণও পাচ্ছেন স্পিনাররা। এমন উইকেটে টাইমিং মেলাতে বেগ পেতে হয় ব‌্যাটসম‌্যানদের। বিশেষ করে যারা বড় শট খেলতে অভ‌্যস্ত তাদের বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হয়।

ইশান তেমনই একজন। পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদির বল দারুণ টাইমিংয়ে ছয় হাঁকালেও স্পিনারদের খেলতে সমস‌্যা হচ্ছিল। তবুও হাল ছাড়েননি। সময় নিয়ে উইকেটে টিকে রান বাড়িয়েছেন। ২৭ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর শাদাব খানের ১ ওভারেই ১৭ রান আদায় করে নেন। মনে হচ্ছিল স্কোরটা বড় হবে তার।

কিন্তু নবম ওভারে তাকে থামিয়ে পাকিস্তানকে স্বস্তি এনে দেন সাইম। অফস্পিনারের বল উইকেট থেকে সরে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। আগেভাগেই ব‌্যাট বল মিস করেন সাইম। ২৭ বলে ফিফটি ইশানের
ব্যাট হাতে দোর্দন্ড প্রতাপ ছড়াচ্ছেন ইশান কিশান। একহাতে শাসন করছেন পাকিস্তানের বোলারদের। ২৭ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। দলের রান প্রবাহ একাই বাড়িয়ে নিচ্ছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৫০ রান ছুঁতে ৭ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। পাওয়ার প্লে’ তে ভালো অবস্থানে ভারত।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারে ভারত উইকেট হারায়। কিন্তু ইশান কিশানের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ৬ ওভার শেষে ভারতের রান ১ উইকেটে ৫২। উইকেটে বল ঠিকঠাক আসছে না। ধীরগতির উইকেট। টার্ণও পাচ্ছেন স্পিনাররা। পাকিস্তান প্রথম ৬ ওভারের ৫টিই করেছেন স্পিনাররা

প্রথম ওভারে অধিনায়ক সালমান আগা বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে নেন। একাদশে ফিরে শূন্য রানে আউট হন অভিষেক। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন ইশান। ২৫ বলে ৪২ রান করেছেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়। তার সঙ্গে ৭ বলে ১০ রানে অপরাজিত আছেন তিলক বার্মা। হ‌্যান্ডশেক হলো না, টস জিতে ভারতকে ব‌্যাটিংয়ে পাঠাল পাকিস্তান

কলম্বোর প্রেমাসাদা স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা নেই। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয়, জমজমাট ও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান ম্যাচটা যে শুরু হবে একটু পরই। রবী শাস্ত্রীর মতে, ‘‘ইটস পার্টি টাইম উইথ ব্যাট-বল ইন কলম্বো।’’

ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ‘যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার অপেক্ষায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এরই মধ্যে টস সম্পন্ন হয়েছে।

পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উইকেট থেকে শুরুর সুবিধা নিয়ে বোলিংয়ে ভালো করতে চান সালমান। অন‌্যদিকে টস জিতলে ভারত আগে ব‌্যাটিংই নিত বলে নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

ভারত একাদশে দুইটি পরিবর্তন এনেছে। অভিষেক শর্মা ও কুলদীপ দলে এসেছেন। বাদ পড়েছেন সানজু স‌্যামসান ও আর্শীদ্বীপ সিং। পাকিস্তান নিজেদের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

টসের পর সবার চোখ ছিল দুই দলের অধিনায়কের ওপর। সালমান আগা ও সূর্যকুমার যাদব হ্যান্ডশেক করেন কি না তা দেখার ছিল। সবশেষ তিন মুখোমুখিতে দুই দলের অধিনায়ক হ্যান্ডশেক করেননি। ম্যাচের পর কেউ কারো মুখও দেখেননি। এবারও বরফ গলেনি দুই প্রতিবেশি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে।

হ্যান্ডশেক হয়নি। টসের পর দুই দলের অধিনায়ক নিজেদের পথ বেছে নিয়েছেন। গতকাল ম্যাচের আগে দুই অধিনায়কই অপেক্ষায় থাকতে বলেছিলেন। বৈরিতা ভুলে তারা মাঠে নামলেও ম্যাচের আগে হ্যান্ডশেক না করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিল দুই দল।

এমনিতেই ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ বেশ আকর্ষণীয়। এবার লড়াইটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছেন নানা ঘটনা প্রবাহে। পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেট মানচিত্রে নেমে আসে বিষন্নতা। ৮ দিন পর পাকিস্তান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে হাফ ছেড়ে বাঁচে ক্রিকেট বিশ্ব।

এখন ৪ ঘণ্টার ব্লকবাস্টার শোয়ের অপেক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পর কার মুখে হাসি ফোটে সেটাই দেখার।

পাকিস্তান একাদশ: শাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ।

ভারত একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক বার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিভাব দুবে, রিঙ্কু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী ও জাসপ্রিত বুমরাহ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ভারতের দাপটে অসহায় পাকিস্তান

Update Time : 07:56:24 pm, Sunday, 15 February 2026

স্পোর্টস সংযোগ:

ব‌্যাট-বলের দাপটে স্রেফ দর্শক বানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম‌্যাচ জিতে নিল বর্তমান চ‌্যাম্পিয়নরা। পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না ভারত। ম‌্যাচে স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। টানা তিন জয়ে সুপার এইটও নিশ্চিত হয়ে গেছে মেন ইন ব্লুদের।

কলম্বোতে আগে ব্যাটিরকরতে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করে। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ১৮ ওভারেই। ৬১ রানের বিশাল ব‌্যবধানে জয় পায় ভারত।

এই ম্যাচটি ঘিরে তুমুল আলোচনা হচ্ছিল। নানা ঘটনা প্রবাহে ক্রিকেট বিশ্বের চোখ ছিল এই ম‌্যাচে। কিন্তু তেমন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে না পারায় ম‌্যাচের আমেজটাই জমলো না। একতরফা ম্যাচে ভারত দেখাল নিজেদের শক্তি। পাকিস্তান না বোলিংয়ে, না ব‌্যাটিংয়ে ন্যূনতম লড়াই করতে পেরেছে।

অতীত রেকর্ডও সেরকম। গত ১৯ বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল আটবার মুখোমুখি হয়ে সাতবারই হেরেছে পাকিস্তান। পরাজয়ের সংখ‌্যাটা এবার আরও বাড়ল। সঙ্গে বিশাল হারের লজ্জা।

বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্লেয়ার অব দ‌্য ম‌্যাচ হয়েছেন ইশান কিশান। বিরুদ্ধ উইকেটে ৪০ বলে ৭৭ রান করেছিলেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। তার দাপটে পাকিস্তানের বোলাররা ছিলেন দিশেহারা। তার ইনিংসটিই গড়ে দিয়েছে ব‌্যবধান।

ভারতের হয়ে হার্দিক, বুমরাহ, বরুণ, অক্ষর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। কুলদ্বীপ ও তিলকের পকেটেও গেছে ১টি করে উইকেট। সব মিলিয়ে গোটা দলের পারফরম‌্যান্স ছিল সম্মিলিত। সেজন‌্য ম‌্যাচ জিততে কোনো সমস‌্যাই হয়নি তাদের শেষটাতেও বিবর্ণ পাকিস্তান।

শুরুর ব‌্যাটসম‌্যানরা কেউ লড়াই করতে পারেনি। মিডল অর্ডারে হাল ধরেছিলেন উসমান খান। বাকিরা স্রেফ দর্শক। উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরেছেন। শেষটাতে পাকিস্তান ছিল আরো বিবর্ণ। শাহীন শাহ আফ্রিদি ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। আবরার, উসমান তারিক খুলতে পারেননি রানের খাতাও। ৭ উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। ১০ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে সপ্তম উইকেট হারাল পাকিস্তান। বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে তারা। ভারত হেসেখেলেই হারানোর পথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।

১১তম ওভারের চতুর্থ বলে উসমান খানকে (৪৪) স্টাম্পড করেন অক্ষর পাটেল। পরের ওভারে কুলদ্বীপ যাদবকে উড়াতে গিয়ে সীমানায় ক‌্যাচ দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন শাদাব খান। পরাজয় নিশ্চিতের আগেই পাকিস্তান অসহায় আত্মসমর্পণ করছে।

তবে শুরুর বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। পাওয়ার প্লে’তে ব‌্যাকফুটে চলে যায় তারা। হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে উসমান খান ও শাদাব খান চেষ্টা করছেন লড়াই করতে। একাধিক বাউন্ডারি পেয়েছেন দুই ব‌্যাটসম‌্যান। কিন্তু লক্ষ‌্যের পথে ছুটতে আরো আগ্রাসী ব‌্যাটিং করতে হবে তাদেরকে। পারবে কী পাকিস্তান?

পাওয়ার প্লে’তে এলোমেলো পাকিস্তান। ভারত পাওয়ার প্লে’তে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ৫২ রান। পাকিস্তান ৪ উইকেটে করেছে মাত্র ৩৮ রান।

১৭৬ রানের লক্ষ‌্য তাড়া করতে নেমে চরম ব‌্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ২ ওভারে ৩ উইকেট হারানোর পর উসমান খান ও বাবর আজম হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাবরকে পঞ্চম ওভারে ফেরান অক্ষর পাটেল। তার আর্ম বলে বোল্ড হন ৫ রান করা বাবর।

উইকেটে উসমানের নতুন সঙ্গী শাদাব খান। চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান, ২ ওভারে নেই ৩ উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম ওভার উইকেট মেডেন। জসপ্রিত বুমরাহ পরের ওভারে হজম করলেন ১৩ রান। কিন্তু তুলে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। স্কোরবোর্ডে ১৩ রান তুলতেই পাকিস্তানের ৩ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ১৭৬ রান টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান।

হার্দিকের করা প্রথম ওভারের তিন বলে রান নিতে পারেননি শাহিবজাদা ফারহান। চতুর্থ বলে ডানহাতি ব‌্যাটসম‌্যান মিড অনে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে বুমরাহকে প্রথম বলে ছক্কা উড়ান সাইম। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওই ওভারের শেষ বলে পাকিস্তানের অধিনায়ক নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন। স্লগ করতে গিয়ে হাওয়ায় ক্যাচ দেন। উইকেটে এখন বাবর আজম ও উসমান খান রয়েছেন। পাকিস্তানের টার্গেট ১৭৬ রান।

পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ব‌্যাটিংয়ে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছে। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা ইনিংসের শেষ ওভারে ১৬ রান তুলে বেশ চনমনে ভারতীয় শিবির। পাকিস্তানের ২০ ওভারের ১৮টিই করেছেন স্পিনাররা। পেসার শাহীন করেছেন ২ ওভার। ১ উইকেট নিয়ে রান দিয়েছেন ৩১।

ভারতের আরো বড় পুঁজি পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলিং ভালো হওয়াতে সেই সুযোগটি পায়নি ভারত। ১০ ওভারে তাদের রান ছিল ৯২। ইশান কিশান বিস্ফোরক ইনিংস খেলে যখন আউট হন তখন ৮.৪ ওভারে তাদের রান ৮৮। হাতে ৮ উইকেট রেখেও ভারত দুইশর কাছাকাছি পুঁজি পায়নি।

তবে এই উইকেটে ব‌্যাটিং করা কঠিন ছিল বেশ। বল উঠা-নামা করেছে। স্পিনারদের বল টার্ণও করেছে বেশ। তাইতো পাকিস্তান ৬ স্পিনার ব‌্যবহার করে ১৮ ওভার করেছে। এর আগেও কলম্বোতে এমন কিছু করেছে তারা। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮ ওভার করেছিল তাদের স্পিনাররা।

জোড়া উইকেটে সাইমের বাজিমাত। প্রথমে তিলক বার্মা, পরে হার্দিক পান্ডিয়া। পরপর দুই বলে আউট দুই ভারতীয় ব‌্যাটসম‌্যান। ১৫তম ওভার দারুণভাবে রাঙালেন সাইম আইয়ুব। হ্যাটট্রিকেরও সুযোগ ছিল। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান শিভাব দুমে তার বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ব্যাট, স্ট্যাম্প ফাঁকি দিয়ে বল যায় উইকেটের পেছনে। পাকিস্তান কট বিহাইন্ডের জন্য রিভিউ নেয়। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

তিলক বার্মা ২৪ বলে ২৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন সাইমের সোজা বলে। পরের বলে হার্দিক লং অফে ক্যাচ তোলেন। বাবর আজম বাকি কাজ সারেন। ওভারে ২ রানে ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে দারুণভাবে ফেরালেন সাইম।

বড় সংগ্রহের পথে ভারত। ১৪ ওভার শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ১২৫। ডেথ ওভারে কত করবে ভারত? শুরুতে উইকেট হারানোর পর ইশান কিশানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ভারত বড় এগিয়ে যায়। কিন্তু তার বিদায়ের পর তেমন রান আসেনি। ইশান থাকা অবস্থায় ওভার প্রতি প্রায় দশের কাছাকাছি রান আসছিল। এখন তা ৮.৯২। উইকেটে আছেন তিলক বার্মা ও সূর্যকুমার যাদব। তৃতীয় উইকেটে ৩২ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েছেন তারা।

বিস্ফোরক ইনিংস খেলে থামলেন ইশান। ৪০ বলে ৭৭ রান করে সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়েছেন ইশান কিশান। ১০ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন ভারতের এই ওপেনার। উইকেট একটু ধীর প্রকৃতির। বল উঠা-নামা করছে। সঙ্গে বাড়তি টার্ণও পাচ্ছেন স্পিনাররা। এমন উইকেটে টাইমিং মেলাতে বেগ পেতে হয় ব‌্যাটসম‌্যানদের। বিশেষ করে যারা বড় শট খেলতে অভ‌্যস্ত তাদের বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হয়।

ইশান তেমনই একজন। পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদির বল দারুণ টাইমিংয়ে ছয় হাঁকালেও স্পিনারদের খেলতে সমস‌্যা হচ্ছিল। তবুও হাল ছাড়েননি। সময় নিয়ে উইকেটে টিকে রান বাড়িয়েছেন। ২৭ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর শাদাব খানের ১ ওভারেই ১৭ রান আদায় করে নেন। মনে হচ্ছিল স্কোরটা বড় হবে তার।

কিন্তু নবম ওভারে তাকে থামিয়ে পাকিস্তানকে স্বস্তি এনে দেন সাইম। অফস্পিনারের বল উইকেট থেকে সরে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। আগেভাগেই ব‌্যাট বল মিস করেন সাইম। ২৭ বলে ফিফটি ইশানের
ব্যাট হাতে দোর্দন্ড প্রতাপ ছড়াচ্ছেন ইশান কিশান। একহাতে শাসন করছেন পাকিস্তানের বোলারদের। ২৭ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। দলের রান প্রবাহ একাই বাড়িয়ে নিচ্ছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৫০ রান ছুঁতে ৭ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। পাওয়ার প্লে’ তে ভালো অবস্থানে ভারত।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারে ভারত উইকেট হারায়। কিন্তু ইশান কিশানের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ৬ ওভার শেষে ভারতের রান ১ উইকেটে ৫২। উইকেটে বল ঠিকঠাক আসছে না। ধীরগতির উইকেট। টার্ণও পাচ্ছেন স্পিনাররা। পাকিস্তান প্রথম ৬ ওভারের ৫টিই করেছেন স্পিনাররা

প্রথম ওভারে অধিনায়ক সালমান আগা বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে নেন। একাদশে ফিরে শূন্য রানে আউট হন অভিষেক। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন ইশান। ২৫ বলে ৪২ রান করেছেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়। তার সঙ্গে ৭ বলে ১০ রানে অপরাজিত আছেন তিলক বার্মা। হ‌্যান্ডশেক হলো না, টস জিতে ভারতকে ব‌্যাটিংয়ে পাঠাল পাকিস্তান

কলম্বোর প্রেমাসাদা স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা নেই। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয়, জমজমাট ও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান ম্যাচটা যে শুরু হবে একটু পরই। রবী শাস্ত্রীর মতে, ‘‘ইটস পার্টি টাইম উইথ ব্যাট-বল ইন কলম্বো।’’

ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ‘যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার অপেক্ষায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এরই মধ্যে টস সম্পন্ন হয়েছে।

পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উইকেট থেকে শুরুর সুবিধা নিয়ে বোলিংয়ে ভালো করতে চান সালমান। অন‌্যদিকে টস জিতলে ভারত আগে ব‌্যাটিংই নিত বলে নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

ভারত একাদশে দুইটি পরিবর্তন এনেছে। অভিষেক শর্মা ও কুলদীপ দলে এসেছেন। বাদ পড়েছেন সানজু স‌্যামসান ও আর্শীদ্বীপ সিং। পাকিস্তান নিজেদের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

টসের পর সবার চোখ ছিল দুই দলের অধিনায়কের ওপর। সালমান আগা ও সূর্যকুমার যাদব হ্যান্ডশেক করেন কি না তা দেখার ছিল। সবশেষ তিন মুখোমুখিতে দুই দলের অধিনায়ক হ্যান্ডশেক করেননি। ম্যাচের পর কেউ কারো মুখও দেখেননি। এবারও বরফ গলেনি দুই প্রতিবেশি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে।

হ্যান্ডশেক হয়নি। টসের পর দুই দলের অধিনায়ক নিজেদের পথ বেছে নিয়েছেন। গতকাল ম্যাচের আগে দুই অধিনায়কই অপেক্ষায় থাকতে বলেছিলেন। বৈরিতা ভুলে তারা মাঠে নামলেও ম্যাচের আগে হ্যান্ডশেক না করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিল দুই দল।

এমনিতেই ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ বেশ আকর্ষণীয়। এবার লড়াইটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছেন নানা ঘটনা প্রবাহে। পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেট মানচিত্রে নেমে আসে বিষন্নতা। ৮ দিন পর পাকিস্তান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে হাফ ছেড়ে বাঁচে ক্রিকেট বিশ্ব।

এখন ৪ ঘণ্টার ব্লকবাস্টার শোয়ের অপেক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পর কার মুখে হাসি ফোটে সেটাই দেখার।

পাকিস্তান একাদশ: শাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ।

ভারত একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক বার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিভাব দুবে, রিঙ্কু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী ও জাসপ্রিত বুমরাহ।