Dhaka 1:38 am, Thursday, 19 February 2026
[gtranslate]

জামিন ছাড়া হত্যা মামলার আসামি ছেড়ে দেয়ায় ডেপুটি জেলার সাময়িক বরখাস্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:32:12 pm, Thursday, 29 January 2026
  • 31 Time View

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিন ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হত্যা মামলার তিনজন আসামি। কারা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে ‘ভুল মুক্তি’ বলে দাবি করলেও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে জাকারিয়া ইমতিয়াজ নামে একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কারাগারের বাইরে কাউকে না জানিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া আসামিরা হলেন মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার তারাটি এলাকায়। একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তারা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, ‍“এটি একটি ‘ভুলমুক্তি’। কারাগারের কর্মকর্তা ভুল করে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন।”

ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুল করে জামিননামা ভেবে এই তিন আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বরত ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, অসতর্কতাবশত এই ঘটনা ঘটেছে।’

জেল সুপার আরও জানান, গাফিলতির দায়ে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিআইজি প্রিজন্স নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তাদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‌‘আসামি ধরতে হলে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা তাৎক্ষণিক আমাদের অবহিত করলে আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা সহজ হতো।’

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কারাগারের ভেতর ও বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে হত্যা মামলার আসামিরা এমন সহজ প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জামিন ছাড়া হত্যা মামলার আসামি ছেড়ে দেয়ায় ডেপুটি জেলার সাময়িক বরখাস্ত

Update Time : 06:32:12 pm, Thursday, 29 January 2026

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিন ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হত্যা মামলার তিনজন আসামি। কারা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে ‘ভুল মুক্তি’ বলে দাবি করলেও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে জাকারিয়া ইমতিয়াজ নামে একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কারাগারের বাইরে কাউকে না জানিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া আসামিরা হলেন মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার তারাটি এলাকায়। একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তারা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, ‍“এটি একটি ‘ভুলমুক্তি’। কারাগারের কর্মকর্তা ভুল করে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন।”

ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুল করে জামিননামা ভেবে এই তিন আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বরত ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, অসতর্কতাবশত এই ঘটনা ঘটেছে।’

জেল সুপার আরও জানান, গাফিলতির দায়ে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিআইজি প্রিজন্স নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তাদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‌‘আসামি ধরতে হলে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা তাৎক্ষণিক আমাদের অবহিত করলে আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা সহজ হতো।’

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কারাগারের ভেতর ও বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে হত্যা মামলার আসামিরা এমন সহজ প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।