আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করার বিষয়টি ‘নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন’ উল্লেখ করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিষয়টি নিয়ে ইইউ সদস্যদের মধ্যে বহুদিন ধরে বিভাজন থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় ইইউ জোট।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইইউয়ের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষের সহিংসতা ও বর্বরতার জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
ফ্রান্স তাদের দীর্ঘদিনের আপত্তি তুলে নেওয়ার পর ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো এক্সে লিখেছেন, ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অসহনীয় দমন আর উত্তরহীন থাকতে পারে না।
ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করেছিল, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও ইরানে থাকা তাদের নাগরিকদের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বেলজিয়ামও একই উদ্বেগে ছিল, তবে দেশটির সরকার গত বছর ইইউ তালিকাভুক্তিকে সমর্থন জানায়। বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভট বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর নৃশংসতা দেখে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স-এ লেখেন, এ মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউরোপ বরং আগুনে ঘি ঢালছে।
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী। পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে ও অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ইইউয়ের সিদ্ধান্তে এখন চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যের ওপর, যারা এখনো আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি, তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী ঘোষণা করা মূলত প্রতীকী হবে, কারণ যুক্তরাজ্যে সংস্থাটি সম্পদ জব্দসহ নানা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
ইইউয়ের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এক বিবৃতিতে বলেন, আইআরজিসি ইরানের বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যে সরকার নিজের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, তা নিজ পতনের দিকেই এগিয়ে যায়।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের প্রধান হান্নাহ নয়মান বলেন, আইআরজিসিকে তালিকাভুক্ত করা হলো ‘অনেক দিনের দেরিতে দেওয়া রাজনৈতিক বার্তা’, যা দেখায়, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক দমন আর উত্তরহীন থাকবে না।
তিনি আরও জানান, এই তালিকাভুক্তি কেবল প্রতীকী নয়, এর সুস্পষ্ট আইনি প্রভাব রয়েছে। সম্পদ জব্দ করা হবে, আর যেকোনো আর্থিক বা উপকরণ সহায়তা এখন থেকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ইইউ আরও ১৫ জন ইরানি সরকারি কর্মকর্তা ও ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, বিক্ষোভ দমনে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে’ ভূমিকার কারণে। নিষেধাজ্ঞায় যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসকান্দার মোমেনি, আইআরজিসির কয়েকজন কমান্ডার, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইরানের অডিও-ভিজ্যুয়াল মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি ও বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানি, যারা সেন্সরশিপ, ট্রলিং, ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও ইন্টারনেট বিঘ্নিত করার কাজে যুক্ত ছিল।
Reporter Name 




















