Dhaka 10:42 pm, Wednesday, 18 February 2026
[gtranslate]

তালতলীতে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:29:39 am, Wednesday, 4 February 2026
  • 30 Time View

বরগুনা সংবাদদাতা:

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে চারজন মিলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় নৃশংস এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে ওই নারী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে হিরুন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি ভুক্তভোগী নারী ও তার মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দেন হিরুন।

হিরুনের আশ্বাসে বিশ্বাস করে মঙ্গলবার বিকেলে হিরুনের সঙ্গে মহিপুর থেকে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় যান ভুক্তভোগী নারী। পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে হিরুন তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। রাতের বেলায় হিরুনসহ আরও তিনজন ব্যক্তি তাকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গভীর রাতে অভিযুক্তরা একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে গেলে সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে পাশের একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই সারারাত অবস্থান করেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তাকে কান্নাজড়িত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি মুসল্লিদের সামনে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের কথা বলে আমাকে এখানে আনা হয়েছে। রাতে চারজন মিলে আমার সঙ্গে পাশবিক আচরণ করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত হিরুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে এনে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা ও নারীর মাধ্যমে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন, ফজরের নামাজ শেষে দেখি এক নারী মসজিদের পাশে বসে কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, হিরুন নামের এক ব্যক্তি তাকে এখানে এনে চারজন দিয়ে সারারাত ধর্ষণ করেছে।

ঘটনার বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তালতলীতে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

Update Time : 11:29:39 am, Wednesday, 4 February 2026

বরগুনা সংবাদদাতা:

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে চারজন মিলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় নৃশংস এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে ওই নারী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে হিরুন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি ভুক্তভোগী নারী ও তার মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দেন হিরুন।

হিরুনের আশ্বাসে বিশ্বাস করে মঙ্গলবার বিকেলে হিরুনের সঙ্গে মহিপুর থেকে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় যান ভুক্তভোগী নারী। পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে হিরুন তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। রাতের বেলায় হিরুনসহ আরও তিনজন ব্যক্তি তাকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গভীর রাতে অভিযুক্তরা একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে গেলে সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে পাশের একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই সারারাত অবস্থান করেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তাকে কান্নাজড়িত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি মুসল্লিদের সামনে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের কথা বলে আমাকে এখানে আনা হয়েছে। রাতে চারজন মিলে আমার সঙ্গে পাশবিক আচরণ করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত হিরুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে এনে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা ও নারীর মাধ্যমে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন, ফজরের নামাজ শেষে দেখি এক নারী মসজিদের পাশে বসে কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, হিরুন নামের এক ব্যক্তি তাকে এখানে এনে চারজন দিয়ে সারারাত ধর্ষণ করেছে।

ঘটনার বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।